News Flash

মুশফিকুর রহিম
মুশফিকুর রহিম
 ম্যাচ জয়ের উদ্যাপন প্রসঙ্গে—
মুশফিকুর রহিম: ব্যাক টু ব্যাক ম্যাচ জেতাটা অবশ্যই সেলিব্রেট করার মতো। আমরা সেটা করেছি। তবে সবাই জানে, সেলিব্রেশনের চেয়ে বড় ব্যাপার সামনে আমাদের ফাইনাল ম্যাচ। অনেক বড় ম্যাচ। সবাই সেটার জন্য প্রস্তুত। আশা করি, এই ম্যাচ জিতেও আমরা সেলিব্রেট করতে পারব।
 ফাইনাল প্রসঙ্গে—
মুশফিক: টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, আমরা এখনো ওই রকম দল হইনি যে ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কাকে ধারাবাহিকভাবে হারাব। আমাদের একটা টার্গেট ছিল প্রতিটি ম্যাচে ভালো করব এবং লড়াই করব। আপনারা খেয়াল করে থাকবেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি আমরা। তারপরের ম্যাচ আরও ভালো খেলেছি এবং সর্বশেষ ম্যাচ আগেরটার চেয়েও ভালো খেলেছি। এভাবে খেলতে থাকলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে আমরা নিয়মিত জিততে পারব। সেটাই হচ্ছে এখন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এই টুর্নামেন্টে আমাদের চার-পাঁচজন সব বিভাগে খুব ভালো খেলছে।
 প্রত্যাশার চাপ থাকবে, নাকি হারানোর কিছু নেই?
মুশফিক: কাগজে-কলমে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ওদের ম্যাচ উইনারও অনেক বেশি। টুর্নামেন্টে যেভাবে খেলছি সেটার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ফাইনাল অনেক ক্লোজ হবে। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফেবারিট দল পাকিস্তান। আশা করি, তাদের হারানোও অসম্ভব হবে না। তবে সে জন্য সেরা খেলাই খেলতে হবে।
 ভারতের বিপক্ষে জয়টাই টার্নিং পয়েন্ট কি না—
মুশফিক: ম্যাচের পর বলেছিলাম, এই জয় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা এখন পর্যন্ত অনেক কিছু অর্জন করেছি এই টুর্নামেন্টে। আর একটা মাত্র খেলা আছে...আশা করি, আমরা আবারও পারব। অনেক খেলোয়াড় আছে যারা পারফর্ম করছে এবং অনেকেই আছে যারা ভালো করতে সক্ষম।
 শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমে মাশরাফির বক্তব্য—
মুশফিক: আগেই বলেছিলাম, মাশরাফি ভাই যখন দলে থাকেন, খেলুন না না-ই খেলুন, দলটা অনেক চাঙা হয়ে যায়। উনি সব সময় আমাদের সাহায্য করেন, গাইড করেন। আমি, সাকিব বা রিয়াদ ভাই সব সময়ই কথা বলি। কাল (পরশু) ওনাকে বলা হয়েছিল, আপনি কিছু একটা বলেন। ম্যাচ শেষে উনিও কথা বলতে চেয়েছেন।
 সাম্প্রতিক সময়ে একমাত্র পাকিস্তানকেই হারানো হয়নি—
মুশফিক: তারা অবশ্যই বড় মাপের দল। এত খেলোয়াড় আসে-যায়, তার পরও তারা এত শক্তিশালী। আমার মনে হয়, বিশ্বে আর কোনো দল এ রকম নয়। তো তাদের সঙ্গে জেতা খুবই কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। আগের ম্যাচে যেভাবে খেলেছিলাম সেটা থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারি আমরা। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ফাইনালে ওদের হারানো খুব অসম্ভব নয়।
 এশিয়া কাপে কখনো ভালো করেনি বাংলাদেশ—
মুশফিক: এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। টুর্নামেন্টের আগে এই বিষয়ে আমরা অনেক পরিকল্পনা করেছি। ছেলেরা আত্মবিশ্বাসী এবং এটা নিজেদের প্রমাণ করার অনেক বড় সুযোগ। এশিয়া কাপ বড় একটি প্রতিযোগিতা। সেজন্য তিনটা সপ্তাহ ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে।
 একসঙ্গে অনেকের ভালো খেলা—
মুশফিক: এই টুর্নামেন্টে সাফল্যের রহস্য এটাই। আগে দু-একজন ভালো খেলত এবং আমরা শেষ পর্যন্ত হেরে যেতাম। এবার তামিম, সাকিব, রিয়াদ ভাই, নাসির—ব্যাটিংয়ে চার-পাঁচজন ভালো খেলছে। এতে বোঝা যায় দলটা একটা অবস্থায় আছে। বোলিংয়ে রাজ ভাই, মাশরাফি ভাই, নাজমুল ও সাকিব সবাই অবদান রাখছে।
 চ্যাম্পিয়ন হতে যদি না-ও পারে বাংলাদেশ, এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল তো হবে!
মুশফিক: পুরো টুর্নামেন্টেই আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। তবে এত দূর আসার পর আর ফিরতে চাই না। ফাইনাল যেহেতু খেলছি, জেতারই লক্ষ্য থাকবে। তারা বড় দল, ভালো দল। তাদের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই। কিন্তু একটা সুযোগ এসেছে ভালো খেলে দেশকে কিছু একটা উপহার দেওয়ার।
 দর্শকদের চাপ—
মুশফিক: চাপ তো অবশ্যই। ভারতকে হারানোর পর সবাই বলেছেন, ভাই, শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও কিন্তু জিততে হবে। শ্রীলঙ্কা যেন কেনিয়া বা স্কটল্যান্ডের মতো দল, খেললেই জিতে যাব। দল ভালো খেললে এ রকম প্রত্যাশা তৈরি হবেই। এসব ক্ষেত্রে দর্শকের সমর্থন আমাদের অনেক সাহায্য করে।

No comments:

Post a Comment